পিতামাতার স্বপ্ন নয়, কন্যার নিজের স্বপ্ন পূরণ হোক


সেই ১৯৮৮ সাল। ‘ফেব্রুয়ারী’ মাস। তারিখ ১৫। ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় বেশ ভালো রেজাল্ট করে যোগদান করেছিলাম বিভাগীয় কমিশনার খুলনা কার্যালয়ে। অতঃপর ১৭৮১ সালে পৃথক জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত যশোর জেলায় জীবনের প্রথম পোস্টিং সেই ফেব্রুয়ারি মাসের একই সপ্তাহে । চোখে সমীহ ও বিস্ময় জাগানো যশোর কালেকটরেট বা যশোহর কালেকটরেট ভবন। অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্যশিল্পের দৃষ্টান্ত। দড়াটানার মোড়ে আজও সাতরঙা রাজকীয় সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে সেই কালেকটরেট ভবন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই কালেকটরেটে বসেই কাজ করেছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। এই যশোরের নমঃশূদ্র চাষিরা গড়ে তুলেছিলেন ব্রিটিশ-জমিদার নীলকর দস্যু আর তাদের সহযোগী ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আকাশ-বাতাস কাঁপানো কৃষক আন্দোলন বা নীল বিদ্রোহ।

উল্লেখ্য, তখন খুলনা ছিল বিখ্যাত যশোর জেলার একটি মহকুমা মাত্র। যশোর বললেই আজও মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাম উচ্চারিত হয় হাওয়ায়। যশোর মানেই কবিতা-গানে মুখরিত ‘মধুমেলা’। যশোর মানেই সেলিব্রেটি অভিনয়শিল্পী সুচন্দা-ববিতা-মৌসুমী-রিয়াজ-তাসনিয়া ফারিণদের জেলা। যশোর মানেই ঊনিশ একাত্তরের সেপ্টেম্বরে গোয়ালহাটির যুদ্ধ ! যশোর মানেই বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর অসম বীরত্বের গৌরবমাখা সমাধি। যশোর মানের ঊনিশ শ একাত্তরে প্রথম শত্রু দখল থেকে মুক্ত হওয়া জেলা। যশোর মানেই বিখ্যাত যশোর রোড়, শতবর্ষী দ্বিশতবর্ষী বৃক্ষে শোভিত সুন্দর ভূগোল, তার সঙ্গে অ্যালেন্স গিন্সবার্গের ‘September on Jessore Road’ শিরোনামের বিখ্যাত কবিতার ছবি।

যশোর মানেই বদ্বীপের ফুলের রাজধানী। যশোর মানেই ভবদহ বিলের জলাবদ্ধতা আর বিখ্যাত উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের স্মৃতি। যশোর মানেই খেজুর গুড়ের মাতৃভাণ্ডার। যশোর মানেই আমিনুল ইসলামের প্রথম কর্মস্থল, এলোমেলো রোমান্টিকতা, মির্চা এলিয়াদের ‘লা নুই বেঙ্গলী’ আর মৈত্রেয়ী দেবীর ‘ন হন্য তে’ পড়ে পাঠোত্তর প্রশ্নে জিতে যাওয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ নির্মাতা ও পাঠকারী এম আর আখতার মুকুলের ‘কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী’ গ্রন্থটি। আমার যশোর জীবনের সেই স্মৃতি নিয়ে আমি লিখেছি দীর্ঘ আকৃতির কবিতা ‘দড়াটানার মোড়ে দাঁড়িয়ে’ যার শুরুর কয়েকটি পঙক্তি এমন:

আচ্ছা দড়াটানা, তোমার স্মৃতিশক্তি কেমন? দীর্ঘ?
মধ্যম মাপের? নাকি হ্রস্ব?
যদি পরীক্ষার সুযোগ থাকতো,
জিজ্ঞাসা করতাম, বলো তো দড়াটানা,
আমার মেঘভাঙা চুম্বনের শব্দে সে মৌসুমে
কত হাজার ঢেউ উঠেছিল
তোমার অভিভূত জলের বুকে?
গণতন্ত্রের দাবিতে ফাটানো শব্দবোমাগুলো
বেশি ভালোবাসতে তুমি? নাকি-
সাহিত্য-সংগীতের আসরের সুর ও বাণী
যার প্রযোজনায় থাকতো
প্রেমমুখী দুটি প্রাণের সাপ্তাহিক ছুটির সন্ধ্যা?

চাকরিজীবনের প্রথম তিনচার বছর পার করে একসময় ভেবেছিলাম জীবনে বিয়ে করবো না। কিন্তু বিধাতা সেই ভাবনার শোচনীয় পরাজয় ঘটান শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত ‘দত্তা’ উপন্যাসের তিন বন্ধু জগদীশ, বনমালী আর রাসবিহারীর আমৃত্যু অবিবাহিত থেকে দেশহিত ও সমাজসেবা করার প্রতিজ্ঞার অকালে ভেঙে পড়ার ধরনে। এলোমেলোভাবে হঠাৎ বিয়ে করে ফেলি। বিয়ের ১১ মাসের মধ্যে লুবনা চলে আসে পুরুষশাসিত পৃথিবীতে। ডালিয়া নওশিন লুবনা। জওহরলাল নেহেরুর ইন্দিরার মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, লুবনাকেই গড়ে তুলবো, আর সন্তান নেবো না। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনাকে ভণ্ডুল করে দিয়ে ছেলে সজন চলে আসে ৪ বছর পর। সমান ভালোবাসায় স্বাগত জানাই সজনকেও।

শিক্ষাগতভাবে লুবনা-সজন দুজনই প্রকৌশলী। কুয়েট ও চুয়েট। অথচ লুবনা আজ (৫ মে) সেই যশোর কালেকটরেটে, এখনকার ভাষায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করলো সহকারী কশিনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। তার আগে গতমাসে ২৮ এপ্রিল সে সরকারি চাকরিতে প্রথম যোগদান করে সহকারী কশিনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয়ে। পিতা এবং কন্যার জীবন একই পথরেখায়। কাকতালীয় অথচ সুন্দর।

আমরা ১৯৮৮ সালে যখন সিভিল সার্ভিসে যোগদান করি, তখন ‘স্বৈরাচারী এরশাদ’ ক্ষমতায়। কেন তাকে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ বলা হতো এখন বুঝে উঠতে পারিনি। যদিও তার বিরুদ্ধে তখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আন্দোলনকে সমর্থন করেছি, তাতে মাঝে মাঝে শরিকও হয়েছি । মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আমাদের সঙ্গে দুজন মহিলা সহকর্মী যোগদান করেছিলেন যশোর কালেকটরেটে। আমাদের আগের আরও দুই ব্যাচের মহিলা সহকর্মী সেখানে কর্মরত ছিলেন তখন। শুনতে খটকা লাগতে পারে তবু সত্য, সেই সময়ে নারীর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, অফিস আদালত অনেক নিরাপদ ছিল। আর আজ? এই প্রশ্নের উত্তর প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, সংবাদপত্রে, টেলিভিশনে, ফেসবুকে, ইউটিউবে। মাদ্রাসা, হাইস্কুল-কলেজ-পাবলিক বিশ্ববদ্যিালয়; সবখানেই নারী নিপীড়ন, অবিচার ও নিরাপত্তহীনতার শিকার নারী। অথচ এমপি, মন্ত্রী, সচিব, মেজর জেনারেল, রাষ্ট্রদূত, ভাইস চ্যান্সেলর, প্রিন্সিপাল, ডিসি, এসপি, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, সব পদে নারীর অংশগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠা চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো। কী এক অদ্ভূত প্যারাডক্স !

পুরষতন্ত্র সৃষ্ট, শাসিত ও পরিচালিত পুরুষ; পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েও মনেপ্রাণে ও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই ‘প্রভুত্বপরায়ণ’, ‘কর্তৃত্বপরায়ণ’ পুরুষ রয়ে যাচ্ছে। অন্ধকার পোশাকে বন্দি অথবা গোমূত্র পানে মাতোয়ারা শিক্ষিত নারীরা বুঝুক কিংবা নাই বুঝুক, এটা সত্য যে, কোনো ধর্মই নারীকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমান অধিকার দেয়নি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো তাকে বাঁচার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করে এসেছে যুগের পর যুগ। যেখানে নারীর নেতৃত্বই স্বীকৃত নয়, যেখানে নারীর মুখ দর্শনে নরকগামী পাপ হয় পুরুষের, সেখানে ধর্মের কাছে নারীর তেমন কোনো ইতিবাচক প্রত্যাশা থাকার যুক্তি নেই। কিন্তু ‘আমরা তিমির বিনাশী’ বলে যারা সাহিত্য-সংস্কৃতি- প্রগতিশলীতার ঠিকাদারী নিয়ে আছে, তারাও নারীর বিষয়ে গতানুগতিক পুরুষ। সুযোগ পেলেই তারাও নারীর শরীরটা ভোগ করতে চায় , ‘মাখিয়া চাখিয়া চব্য চষ্য করিয়া’। অর্থাৎ ‘আলোকিত পথে’। প্রায় প্রতিটি পুরুষ একান্ত বাসনায় চায় এক একটি হেরেমখানার মালিক হতে। সম্রাটগণ নাই, সেই রাজকীয় হেরেমখানা নাই। কিন্তু হেরেমখানা রয়ে গেছে এবং বেড়েছে বহুগুণে, বদলিয়ে রূপ, বদল করে স্থান; নিশ্চিত করে নিরপাদ আড়াল। এই নিয়ে আমি ‘হেরেমখানা’ নামে একটি কবিতাও লিখেছি; যা আমার ‘পরদেশী মেঘ’ কবিতাগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তারও আগে আমি আমার ‘মাফ করো নারী’ কবিতায় লিখেছিলাম:

যারা দুচারজন মাঝেমধ্যে কথা বলে তোমার পক্ষে,
তাদের একটা বড়ো অংশই ডাবল স্টান্ডার্ড লোক;
মনে করে দেখো ‘আম্মা’ উপাধিপ্রাপ্ত অভিনেত্রী

সন্ধ্যা নাইডুর কথা:
‘They call me ‘Amma’ at the shooting spot
in the morning and ask me
to come and sleep with them at night.”

সবচেয়ে ভয়ংকর ও হাতাশাজনক ব্যাপার হচ্ছে: প্রায় সব ধরনের পুরুষ বিশেষত উচ্চশিক্ষিত পুরুষ নারীর প্রতিষ্ঠাকে ভয় পায়, নারীর গভীর ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যকে হৃদয়মন থেকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃত হয় লজ্জাহীনভাবে । ফলে সুযোগ পেলেই এসব পুরুষ সমাজের চাকরিজীবী অথবা ব্যবসায়ী অথবা অন্য কোনো পেশায় উঁচু আসনের অধিকারী নারীর বিরুদ্ধে নোংরা ভাষায় আক্রমণ ছড়াতে মেতে ওঠে অশ্লীলভাবে । অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, এসব বীর পুরুষদের বড় অংশটাই আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার রঙিন মুখোশ পরা লেখক-সংস্কৃতিকর্মী-শিক্ষক-মিডিয়াকর্মী-গজায়মান বুদ্ধিজীবী-রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট। পুরুষতন্ত্র প্রযোজিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া তো আছেই, তারচেয়ে বেশি আছে; দায়িত্বজ্ঞানরহিত যেমন ইচ্ছে লেখার ও প্রচারের মাধ্যম মহামতি জুকারবার্গের ‘ফেসবুক’। আমি এসব দেখে ব্যথিত হয়ে এক কবিতায় লিখেছিলাম:

কল্পতরু অথবা সিদরাতুল মুনতাহা,
সর্বগামী শয়তানের যেখানে শেষ,
সেখানেও পুরুষতন্ত্রের রাজত্ব
সবখানেই সান্ত্রী রক্ষী ওয়াচ টাওয়ার;
নারীর পালাবার কোনও পথ নেই
যদি-বা কোনো পথ আবিস্কৃত হয়ও,
সে পথ বেয়ে নারী যাবে কোথায়?

আজ লুবনা প্রকৌশলী পেশায় থাকলেও খুশি হতাম আমি; সে শিক্ষকতায় গেলেও খুশি হতাম । খুশি হতাম একইভাবে অন্যকোনো কর্মক্ষেত্রে গেলেও। লুবনা আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই ৪১ বিসিএস-এর ফরম ফিল আপ করেছিল। সেভাবেই দিয়েছিল Priority of choice। আজ সে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করলো। সে পেটের ভাত জোগাড়ের বাধ্যবাধকতায় চাকরি করবে না যদিও বেতন-ভাতা সবই পাবে এবং নেবে । ওর সুদর্শন জীবনসঙ্গী প্রীতমও একজন চাকরিজীবী এবং পেশায় প্রকৌশলী। লুবনার শ্বশুর সরকারি কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, তার শাশুড়ি কর্মরত এখনো কলেজের অধ্যাপক হিসেবে। ওর শশুরবাড়ির নারীদের প্রায় সবাই মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত ও চাকরিজীবী। বিয়ের দিক থেকেও লুবনা একটা নারীবান্ধব পরিবার ও পরিবেশ পেয়েছে।

বেগম রোকেয়া নারীদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন, নারীদের জন্য যে-সুদিনের কথা বলেছিলেন সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, অন্তত শিক্ষালাভ ও প্রতিষ্ঠার দিক থেকে বাংলাদেশের নারীরা আজ তাকে অনেকখানি সত্য করে তুলেছেন। নারীর নেতৃত্বে আজ কীর্তনাশার ওপর পদ্মাসেতু নির্মিত হয়েছে কিন্তু পুরুষ-নারীর মধ্যে পুরুষতন্ত্র কর্তৃক কৃত্রিমভাবে তৈরি করে রাখা বৈষম্যমূলক অন্যায় ব্যবধানের পারাবারের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ নানান ঘোষণার পরও আজও আটকে আছে। আর ‘নারী নিপীড়ক পুরুষতন্ত্র’ সৃষ্ট পুরুষ আজও মনে রাখে না বিদ্রোহী কবির সেই আলোকিত ভবিষ্যদ্বাণী:

নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা অই কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই!
শোনো মর্ত্যের জীব!
অন্যরে যত করিবে পীড়ন, নিজে হবে তত ক্লীব!
(নারী: কাজী নজরুল ইসলাম)

লুবনার সঙ্গে ওর মতো আরও কয়েক শত উচ্চশিক্ষিত মেয়ে আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিভিন্ন পেশায় বিভিন্ন কর্মস্থলে যোগদান করেছে। সামনের দিনুগলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমার যৌক্তিক প্রত্যাশা।

আমি ধর্মেকর্মে মন দেওয়া কোনো পুণ্যবান মানুষ নই। কবিতা, গান , সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতা; এসব নিয়েই কেটে যায় আমার দলহীন দিন; জোটহীন রাত। আমার প্রার্থনা বা দোয়া কবুল হওয়ার কোনো আশাই করি না। তবু ‘Hope against hope ’-এর পথ ধরে প্রার্থনা করি: ‘হে প্রভু, হে প্রকৃতি, হে মহাশক্তি, যদি কেহ নিশ্চিতভাবেই থেকে থাকো কোথাও; আমার মতো সংশয়াকুল দোদিল বান্দার দোলাচলের বিপরীতে, তুমি লুবনাদের হাতে পুরুষতন্ত্রের অবসান ঘটাইও। যেভাবে ১৭৮৯ সালে একদিন পতন ঘটেছিলো অত্যাচারী রাজতন্ত্রের বাস্তিল দুর্গের; আন্দোলনের তোড়ে ফ্রান্সের শোষিত ও নির্যাতিত শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের!