সঙ্ঘমিত্রার চোখে


লিপ্সা চোখে আর কতদূর
অগ্রাহ্য, সবার মন্ত্রপাঠ—
হাসি ও কাশি চক্রান্তসূত্রে জড়াজড়ি
শিশাঢালা বারুদের ঘ্রাণ চমন বাহার…

কোনো যোগ্য ব্যক্তি নেই অথবা জবান
হাত নাড়ালেই সবদিকে কুয়াশার গ্রাম…
চোখপতি প্রজাপতি বাগানে মলিন মালি
সভাসমাবেশে মহানায়ক ঘোষিত
জন্মান্ধের সত্য বুলি কাকপদাবলী…

বিষঢালা কথা ও কলমে
বিষাক্ত বেয়নেটের মহাকাব্য লিখে
মানবিক মর্যাদার কোর্তা পরে
জ্ঞাতি হত্যায় জঘন্য…

ভীষণ হারামি তুমি
আত্মার ঐক্যকে নষ্ট করে ইচ্ছেমতো
আর কত বিষাদের রেসিপি শেখাবে?

নিরপেক্ষ নিশুতি
কী আজব, ব্যাপার—গোপন
সন্ধির চুম্বনে মোম শরমে নরম
গলে গলে চোখমুখ কালোতেই হলে মশগুল

প্রলম্বিত হয়ে গেল আমাদের রাত!
এ রাত ঘুচাবে কি না
প্রশ্নের লাটাই ঘোরে—সুতো লয়ে
যতদূরে পৌঁছে গেছে না ফেরার ঘুড়ি—
কল্পনায় সে এখন দূর চাঁদ

যেখানে শিশুর চোখে চরকায় সুতা কাটে বুড়ি!

আগত, বিগত হতে যদি শিখো নিজের প্রবোধ
দীঘল কালোয় রাখো চিরুনি চালানো
সিঁথি রেখায় হয়তো ফিরে পাবে রক্তিম আলোক

একদিন; হারিয়ে ফেলেছি ভোর।

সূর্য বিপ্রতীপ
দোজখ! সূর্যের প্রাত্যহিক অবদান
যাবতীয় সবুজ সাজাও—বেহেস্ত বেহেস্ত…
আলোর গোলক বিন্দু সূর্য বিপ্রতীপ

সূর্যের প্রখর তাপ ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে
মানুষের পাপ পুড়ে পুড়ে
সতত সাধনা ধূমায়িত তীব্র উদগীরণে…

সূর্য; পাপ খেয়ে পুষে উদ্দাম উদযাপনে
আমাকে তোমাকে ডাকছে, ছাঁই হতে তুমুল আনন্দে…
ও মানুষ, মানুষ কী বোঝ হাবিয়ার আহ্বান?
কাকে বল পঙ্গপাল—দহন আগুন ভালোবেসে!

আনবিক ফুটফুটানির কাছে
সভ্যতার কালবাহী রাস্তাটির পাশে হতভম্ব ভীড়
জাদুকর হাতে অজগর—সম্মুখে পৃথিবী এক নিরীহ ছাগল
সাম্বা নাচের আদলে আত্মহারা যাদুর সতীর্থগণ
অজগর প্রীতি থেকে কেউ কেউ ধ্যানে অজগর
পাপের জঙ্গলে খোঁজে লতায় জড়ানো
রমণের দোল দোল সুখ—প্রস্থপথ, যায় সরু পথে…

বহুজাতিক শোভায় প্রন্থপথে লোভনীয় বিলবোর্ড
বিলবোর্ড খসেই পড়ুন অবহেলি জং গায়ে মেখে

সবদিকে অমানবিক, অশুভ—
সম্পর্কের শুভ দিক-চিহ্ন মাইলফলক চিৎপাত
পিচ-পাথুরে ঘনিষ্ঠ দৃঢ়তার কাছে সুহৃদয় লুপ্ত প্রায়;
সৃষ্ট শ্বাপদ জঙ্গলে ওসব ধ্যানীর ধ্যান…

ধ্যান ভাঙলে দেখতে পাবে ধ্যানী
অজগর অশুভ হা মেলে আছে
অজগরি গ্রীবার সৌন্দর্য উপভোগ করার আগেই
টের পাবে এর অন্তর্গত আনবিক টান…

আনবিক ফুটফুটানির কাছে হেরে যাবে সব—
জব্দ হবে জাদুকর
জব্দ হবে অব্দ, পূর্বঅব্দ, ইতিহাস, প্রাগ-ইতিহাস…

মানুষের ইতিহাস!

সঙ্ঘমিত্রার চোখে
পাঠেই দু’চোখে লাগে ঘোর ঘনঘোর!

বসন্তপুর সীমান্তবর্তী—আমারই জন্মগ্রাম;
সেই সে শৈশবে কাঁটা তারের বেড়ার
কোনো কষ্টফোটা গল্প নেই;
নানাদের ফেলে আসা টিলাদেশ
সময় সুযোগে দেখতে যাওয়া—
টিলাবাসী টিপ্রাদের আদিম জীবন
পাহাড়িয়া খাড়ি ধরে রাঙা মেঠোপথ…

জনশূন্য বন-বনান্তর; পাশ বেয়ে
এঁকেবেঁকে বয় ছড়া স্বচ্ছতোয়া—গিরি ঝিরি;
সতত নীলের প্রতি ভালোবাসা—ফোটে
বেগুনি-নীল—অজানা ফুল অনামিকা;
সঙ্গ দেয় তেজপাতা দৃশ্যত, সবুজ পাতা…

নেই তো কোথাও কেউ—রোদ্রকর ঝিম—গাছে গুল্মে
ছায়ারোদ খেলা করে—নিসর্গের;
নিঃসঙ্গ দুপুর—রহস্যময় বনমোরগ—রেশমি পালক
ছুঁই ছুঁই ছুঁতেই হঠাৎ নিরুদ্দেশ…

সম্বিতে ফিরেই টের পাই এদিক ওদিক—মৌসুমের ঘ্রাণ
সুঘ্রাণে কাঠাল, লিচু, লটকন ও ঝরকা
টকমিষ্ট স্বাদে পাহাড়ের ফলমূল…

স্মৃতির শৈশব হাতড়াই—ওপারের
ওখানে এখন এমনই কেবল বিস্ময়
কেবলই সঙ্ঘমিত্রা—
সঙ্ঘমিত্রা, ছলকে পলকে চোখে চোখ!